1. admin@ajkerdakkhinanchal.com : admin :
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৩:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
২ বছর আগেই ছেলের মা হয়েছেন বুবলী, বাবা শাকিব বাবুগঞ্জে ভেজাল খাবার ও নকল পণ্য বিক্রিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা বাবুগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ডিসি’র সহায়তা প্রদান বরিশাল জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে পারভেজ এর মনোনয়ন দাখিল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ঠাকুরগাঁওয়ের সেই মেয়েকে বিয়ে করা ইতালির নাগরিক পালাল প্রস্তাবিত বাবুগঞ্জ সেতু নির্মাণে এলাকা পরিশর্দনে এলজিইডি’র প্রকল্প পরিচালক সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতার করতে লাগবে না অনুমতি সকল জেলা পরিষদের নির্বাচন ১৭ অক্টোবর আপনাদের এত চাকচিক্যের জীবন যে সাধারণ মানুষ কাছে যেতে পারে না: ডিসিকে হাইকোর্ট

সাবেক প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বে নতুন ইসি গঠন

আজকের দক্ষিণাঞ্চল
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ১১০ বার পঠিত

দক্ষিণাঞ্চল ডেস্কঃ সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন করেছেন রাষ্ট্রপতি। জুডিশিয়াল সার্ভিস থেকে সিভিল সার্ভিসে আসা হাবিবুল আউয়াল সর্বশেষ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এক বিচারক, এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং দুই সাবেক বেসামরিক আমলা।

তারা হলেন, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ রাশিদা সুলতানা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান, সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর এবং সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান। শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সিইসি হিসেবে কাজী হাবিবুল আউয়াল আসছেন, এমন গুঞ্জন তালিকা চূড়ান্ত করার আগে থেকেই ছিল।

সার্চ কমিটির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বিশিষ্টজনদের বৈঠকে অংশ নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নাম প্রস্তাব করেছিলনে। আর তাকে সিইসি নিয়োগের পর জাফরুল্লাহ চৌধুরী সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন। এবং সরকার বিরোধীদের এই কমিশন মেনে নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন গঠনের এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে বিএনপিসহ সমমনা বেশকিছু দল। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সদস্যরা সরকারের পছন্দের লোক। তারা সবাই সরকারের অনুগত, সুবিধাভোগী ও তোষামোদকারী। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিএনপির কোন আগ্রহ নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোন কমিশন কাজ করতে পারবে না।

তবে আওয়ামী লীগের দাবি, ডা. জাফরুল্লাহর প্রস্তাবই বিএনপির প্রস্তাব। নিজেরা না এসে কৌশলে জাফরুল্লাহকে দিয়ে নাম পাঠিয়েছে বিএনপি। তবে ক্ষমতাসীনদের এই অভিযোগ ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাফরুল্লাহ।

এদিকে জাফরুল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ কাজী হাবিবুলের নাম প্রস্তাব করেছে কি-না, এ বিষয়টি পরিষ্কার নয়। কারণ একমাত্র জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করা প্রস্তাব প্রকাশ হয়েছে, তিনি নিজে প্রকাশ করায়।

আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং ব্যক্তি পর্যায় থেকে জমা পড়া ৩২২টি নাম সার্চ কমিটি প্রকাশ করলেও কারা-কাদের প্রস্তাবক এ বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক দল বা সংগঠনগুলো নিজেরাও তা প্রকাশ করেনি। আবার কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ প্রস্তাবকদের নাম প্রকাশ না করতে সার্চ কমিটিকে অনুরোধ করেছিলেন।

তবে সুজন, টিআইবিসহ কয়েকটি সংগঠন এবং সুশীল সমাজের একটি অংশ ‘নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা’ নিশ্চিতের কথা বলে প্রস্তাবকদের নাম প্রকাশের দাবি জানায়। এদিকে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেয়ার তিন দিন আগে চূড়ান্ত ১০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশ করার দাবিও উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। তবে এসব কিছুই প্রকাশ করা হয়নি।

নতুন সিইসি

কাজী হাবিবুল আউয়ালের পৈতৃক ভিটা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে হলেও তার জন্ম কুমিল্লায়, বাবার চাকরি সূত্রে।

হাবিবুল আউয়াল ১৯৭২ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি।

১৯৮১ সালে তিনি জুডিশিয়াল সার্ভিসে মুন্সেফ (সহকারী জজ) পদে যোগদান করে ১৯৯৭ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০০০ সালের ডিসেম্বরে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হন হাবিবুল আউয়াল। ২০০৪ সালে হন অতিরিক্ত সচিব। ২০০৭ সালে পদোন্নতি পেয়ে একই মন্ত্রণালয়ের সচিব হন তিনি। ২০০৯ সালে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সচিব হিসেবে আইন মন্ত্রণালয়েই ছিলেন হাবিবুল আউয়াল।

বিচার বিভাগের এই কর্মকর্তার আইন সচিব হিসেবে নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে ২০১০ সালে রায় দেয় আদালত। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে হাবিবুল আউয়ালের নিয়োগের সময় নীতিমালা না মানায় আদালত তার নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে। ২০১০ সালের এপ্রিলে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় ধর্ম সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয় এবং পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব করা হয়। ২০১৪ সালে সেখান থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব করে পাঠানো হয় তাকে। ওই বছরই পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র সচিব হন তিনি।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের। কিন্তু পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১৬ সালে আরও এক বছর বাড়ানো হয় চুক্তির মেয়াদ। এরপর ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেই সিনিয়ার সচিব হিসেবে ২০১৭ সালে অবসরে যান তিনি।

চাকরিজীবনে তিনি আইন কমিশনের সচিব, শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্বে ছিলেন। অবসরে যাওয়ার পর তিনি বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিন মেয়ের জনক হাবিবুল আউয়ালের স্ত্রী সাহানা আক্তার খানম। তার আত্মজীবনীমূলক একাধিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে।

হাবিবুল আউয়ালের পিতা কাজী আবদুল আউয়াল ১৯৪০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স শেষে বিসিএস (বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস) করে ব্রিটিশ সরকারের কারা বিভাগে ডেপুটি জেলার হিসেবে সরকারি কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৭৫ এ জেলখানায় জাতীয় চার নেতা হত্যার ঘটনার মামলার বাদী ছিলেন। সে সময় (১৯৭৫) আবদুল আউয়াল কারা উপমহাপরিদর্শকের (ডিআইজি প্রিজন্স) দায়িত্বে ছিলেন। হাবিবুল আউয়ালের মা বেগম নাফিসা খাতুন ছিলেন কলকাতা সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক মাওলানা নুরুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কন্যা।

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর

নতুন কমিশনে নিয়োগ পাওয়া মো. আলমগীর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব ছিলেন। এর আগে তিনি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আলমগীর ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে সম্মান এবং ১৯৮৩ সালে একই বিষয়ে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তার জন্ম ১৯৬২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায়। তিনি ১৯৮৬ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি জীবন শুরু করেন। তিনি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক, ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) প্রশাসক ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মো. আলমগীর ১০ জুন ২০১৯ সচিব হিসেবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাওয়ার আগে ২৬ জানুয়ারি তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান

মো. আনিছুর রহমান শরীয়তপুর জেলায় ৩১ ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ হতে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের সদস্য আনিছুর রহমান ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৮ সালে চাকরিতে যোগ দেন। চাকরিজীবনে তিনি সহকারী কমিশনার, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কাজ করে মাঠ ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, অর্থ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং উক্ত মন্ত্রণালয়ে ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল হতে সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আনিছুর রহমান জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সচিব হিসেবে ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি যোগদান করেন এবং এরপর সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি পিআরএলে (এক বছরের অবসরোত্তর ছুটি) যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ © আজকের দক্ষিণাঞ্চল
Theme Customized BY Shakil IT Park